সাস্থ্য ডেস্কঃ
বাংলায় আমড়া কাঠের ঢেঁকি বলে প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে। আমড়া গাছের কাঠটি যেমন হোক না কেন এর
ফলটি বেশ মজাদার আর জনপ্রিয়। দেশি ফলের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল হলো আমড়া। সহজলভ্য মজার এই ফল ছোট-বড় সবার কাছেই প্রিয়। আমড়া বছরজুড়েই বাজারে পাওয়া যায়, তবে বেশি পাওয়া যায় বর্ষা ঋতুতে। আমাদের দেশে আগস্ট মাসে এই ফল বাজারে আসে আর থাকে অক্টোবর পর্যন্ত। আমড়া ফলকে শুধু মজাদার ফল বললে ভুল বলা হবে কেননা এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।
প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী আমড়াতে পাওয়া যাবে শর্করা ১৫ গ্রাম, আমিষ ১.১ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.২৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৯২ মিলিগ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৬ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি। আমড়াতে ৯০ শতাংশ পানি।এসব উপাদান আপনার শরীরকে রাখে নানা রোগ থেকে মুক্ত। আসুন জেনে নেয়া যাক পুষ্টি উপাদানে অনন্য আমড়া সম্পর্কে-
ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
আমড়া প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তথা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল। এই ভিটামিন-সি আমাদের বার্ধক্যকে প্রতিহত করে, ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, মাড়ি ও দাঁতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমড়ার গুণে ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর থাকে। সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে এটি বেশ উপকারী।
রক্তস্বল্পতা দূর করতে
আমাদের দেহের সর্বত্র অক্সিজেন সরবরাহকারী হিমোগ্লোবিন ও মায়োগ্লোবিনের মূল উপাদান লৌহ। তাই দেহের সুস্থতা রক্ষায় লৌহ প্রয়োজন এবং দৈনিক একটি আমড়া গ্রহণে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ লৌহের দৈনিক চাহিদা পূরণ সম্ভব। লৌহ আমাদের রক্তস্বল্পতা দূর করতে বেশ কার্যকর।
ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়
আমড়া শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপকে নিষ্কাশনে সাহায্য করে আমড়া। আমড়া রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে
বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে আমড়ার আঁশ উপকারী।
খিঁচুনি রোধে
খিঁচুনি ও পিত্তনাশক হিসেবে আমড়ার ব্যবহার বহুল প্রচলিত।
অরুচি ভাব দূর করে
আমড়া গ্রহণে মুখের অরুচি ভাব দূর হয়। এক কাপ পানিতে আমড়ার শাঁস ভিজিয়ে রেখে পরদিন তাতে সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে খাওয়ার অরুচি কমে যায়।শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপকে দূর করতে সাহায্য করে আমড়া।
প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে
আমড়াগাছের বাকল, পাতা, ফল, ফুল ও শেকড় ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যেমন—দক্ষিণ আমেরিকায় ধাত্রী রোগের চিকিৎসায় আমড়াগাছের পাতা ও বাকল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সন্তান প্রসবের ব্যথা দূর করতে, প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে, মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে ও জরায়ুমুখের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
পাতাও উপকারী
আমড়াগাছের পাতা ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, পেটব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অণুজীবঘটিত সর্দি-জ্বর, গলাব্যথায় এটি উপকারী। যেকোনো ধরনের পোড়া, ক্ষত, আঘাতে পাতার প্রলেপ দেওয়া যায়। আমড়াগাছের পাতার মতো এর বাকলও যেকোনো বাহ্যিক ক্ষতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
মাড়ি ও দাঁতের যত্নে
আমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম। মাড়ি ও দাঁতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এসব উপাদান সাহায্য করে।
খিঁচুনি প্রতিরোধে
খিঁচুনি, পিত্ত ও কফ নাশক হিসেবে আমড়ার রয়েছে বহুল ব্যবহার।
ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখতে
ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখে আমড়ার গুণের পরিচয়। ত্বকের নানা রোগও প্রতিরোধ করে।

অনেক সুন্দর নিউজ হয়েছে
উত্তরমুছুন