স্বাস্থ্য ডেস্কঃ
কালোজাম গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় ফল। জাম বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। জাম খাওয়াও খুব সহজ কারণ এর খোসা ছারাতে হয়না। এর মিষ্টি রসালো স্বাদ ছোটদের খুব প্রিয়। ত্বক, চুল ও সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী জাম। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও স্যালিসাইলেটসহ, অসংখ্য উপাদান। এছাড়াও জাম এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, চলুন জেনে নেই জামের স্বাস্থ উপকারিতা সমূহ।
১। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
ঐতিহ্যগতভাবেই জাম ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জামের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিসের জন্য ভালো বলে বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। কমপ্লিমেন্ট থার মেড এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় জানা যায় যে, জামের ডায়াবেটিক বিরোধী গুণ আছে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে জামের বীচি রক্তের সুগার লেভেল ৩০% পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে। এই ফলটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
জামে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি থাকে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জাম অতুলনীয়ভাবে কাজ করে। এছাড়াও শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে জাম।
৩। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
জামে এলাজিক এসিড বা এলাজিটেনিন্স, এন্থোসায়ানিন এবং এন্থোসায়ানিডিন্স থাকে যা প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানগুলো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে কোলেস্টেরলের জারণ রোধ করে এবং হৃদরোগ সৃষ্টিকারী প্লাক গঠনে বাধা দেয়। এছাড়াও হাইপারটেনশন প্রতিরোধেও সাহায্য করে জাম। কারণ এতে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম জামে ৫৫ গ্রাম পটাসিয়াম থাকে।
৪। ইনফেকশন ভালো করে
ঐতিহ্যগতভাবেই জাম গাছের বাকল, পাতা ও বীজ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে আসছে। ম্যালিক এসিড, গ্যালিক এসিড, অক্সালিক এসিড এবং ট্যানিন থাকে জাম উদ্ভিদে। একারণেই জাম উদ্ভিদ ও এর ফল ম্যালেরিয়া রোধী, ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং গ্যাস্ট্রোপ্রোটেক্টিভ হিসেবে কাজ করে।
৫। পরিপাকে সাহায্য করে
আয়ুর্বেদিক ঔষধে জাম পাতা ব্যবহার করা হয় ডায়রিয়া ও আলসার নিরাময়ে। এছাড়াও মুখের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যার ঔষধ তৈরিতেও ব্যবহার হয় জামপাতা। জাম খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত ও মাড়ি শক্ত ও মজবুত করে এবং দাঁতের মাড়ির ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।
৬। ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে
বিভিন্ন গবেষণায় জামের কেমোপ্রোটেক্টিভ বৈশিষ্ট্য প্রমাণিত হয়েছে। জাগেতিয়া জিসি এন্ড কলিগস এর করা এক গবেষণা মতে জানা যায় যে, জাম ফলের নির্যাসে রেডিওপ্রোটেক্টিভ উপাদান আছে। এতে আরো বলা হয় জামের নির্যাস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলের কাজে এবং বিকিরণে বাধা দেয়।
৭। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি
কালোজাম টিস্যুকে টান টান হতে সাহায্য করে। যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেইন অ্যালারট হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৮। মূত্রনালীর সংক্রমণ রোধ করে:
জামের বাইরের আবরণে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ। আঁশজাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দীর্ঘ দিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলদ্বারে টিউমার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জাম মলদ্বার বা কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৯। উচ্চ রক্তচাপ:
ক্লিনিকাল ভাবে উচ্চ রক্তচাপ এর জন্য জামকে প্রেসক্রিপশনে প্রদান করা হয়েছে। পুষ্টিবিদ এবং চিকিত্সকগণ তাজা ফল এবং সবজি খাওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জামে সেই সকল উপাদান আছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।
১০। ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে:
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিক কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়বেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে।
১১। ভিটামিন সি জনিত রোগ দূর করে:
জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যার জন্য এটা দেহে ভিটামিন সির ঘাটতি পূরণ করে এবং একই সঙ্গে ভিটামিন সির অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাড়ি শক্ত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জুড়ি নেই জামের। এতে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান গরমে শরীর ঠাণ্ডা এবং শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতে সক্ষম। যারা অতিরিক্ত ঘামেন, তাদের জন্য তো কথাই নেই। জামে দেখা মেলে বেশি পরিমাণের আয়রনেরও, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে।
১২। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে:
জামে কম পরিমাণের ক্যালোরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যারা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাদের খাদ্য তালিকায় আসতে পারে জাম।
১৩। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
এর মধ্যে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। এটি অন্ত্রে পানি প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে।
১৪। হাড় শক্ত করে
কালো জামের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করে। ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম হাড় শক্ত করা নিশ্চিত করে।
১৫। ত্রুটিপূর্ণ জন্ম প্রতিরোধ করে
কালো জামে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড আছে যা শিশুর ত্রুটিপূর্ণ জন্ম প্রতিরোধ করে। এটি কার্ডিওভাসকুলার হৃদরোগ এবং গর্ভে থাকা শিশুর বিভিন্ন ত্রুটি প্রতিরোধ করে।
সতর্কতা: খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়ার পর দুধ খাবেন না।
কালোজামের অসামান্য যত স্বাস্থ্য উপকারিতা !
প্রকাশের সময়: Sun, Jun 5th, 2016 | স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য ডেস্কঃ
কালোজাম গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় ফল। জাম
বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী।
জাম খাওয়াও খুব সহজ কারণ এর খোসা ছারাতে হয়না। এর মিষ্টি রসালো স্বাদ
ছোটদের খুব প্রিয়। ত্বক, চুল ও সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী জাম। জামে
রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও
ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও স্যালিসাইলেটসহ, অসংখ্য উপাদান।
এছাড়াও জাম এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, চলুন জেনে নেই জামের স্বাস্থ
উপকারিতা সমূহ।
১। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
ঐতিহ্যগতভাবেই জাম ডায়াবেটিসের চিকিৎসায়
ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জামের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিসের জন্য
ভালো বলে বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। কমপ্লিমেন্ট থার মেড এ প্রকাশিত একটি
গবেষণা পর্যালোচনায় জানা যায় যে, জামের ডায়াবেটিক বিরোধী গুণ আছে। অন্য
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে জামের বীচি রক্তের সুগার লেভেল ৩০% পর্যন্ত
কমাতে সাহায্য করে। এই ফলটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
জামে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যেমন-
ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি থাকে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি করতে জাম অতুলনীয়ভাবে কাজ করে। এছাড়াও শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করতেও
সাহায্য করে জাম।
৩। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
জামে এলাজিক এসিড বা এলাজিটেনিন্স,
এন্থোসায়ানিন এবং এন্থোসায়ানিডিন্স থাকে যা প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এই
উপাদানগুলো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে কোলেস্টেরলের
জারণ রোধ করে এবং হৃদরোগ সৃষ্টিকারী প্লাক গঠনে বাধা দেয়। এছাড়াও
হাইপারটেনশন প্রতিরোধেও সাহায্য করে জাম। কারণ এতে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে।
১০০ গ্রাম জামে ৫৫ গ্রাম পটাসিয়াম থাকে।
৪। ইনফেকশন ভালো করে
ঐতিহ্যগতভাবেই জাম গাছের বাকল, পাতা ও বীজ
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে আসছে। ম্যালিক এসিড,
গ্যালিক এসিড, অক্সালিক এসিড এবং ট্যানিন থাকে জাম উদ্ভিদে। একারণেই জাম
উদ্ভিদ ও এর ফল ম্যালেরিয়া রোধী, ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং
গ্যাস্ট্রোপ্রোটেক্টিভ হিসেবে কাজ করে।
৫। পরিপাকে সাহায্য করে
আয়ুর্বেদিক ঔষধে জাম পাতা ব্যবহার করা হয়
ডায়রিয়া ও আলসার নিরাময়ে। এছাড়াও মুখের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যার ঔষধ
তৈরিতেও ব্যবহার হয় জামপাতা। জাম খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত ও মাড়ি
শক্ত ও মজবুত করে এবং দাঁতের মাড়ির ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।
৬। ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে
বিভিন্ন গবেষণায় জামের কেমোপ্রোটেক্টিভ
বৈশিষ্ট্য প্রমাণিত হয়েছে। জাগেতিয়া জিসি এন্ড কলিগস এর করা এক গবেষণা মতে
জানা যায় যে, জাম ফলের নির্যাসে রেডিওপ্রোটেক্টিভ উপাদান আছে। এতে আরো বলা
হয় জামের নির্যাস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলের কাজে এবং বিকিরণে
বাধা দেয়।
৭। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি
কালোজাম টিস্যুকে টান টান হতে সাহায্য করে।
যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেইন অ্যালারট হিসেবে কাজ
করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৮। মূত্রনালীর সংক্রমণ রোধ করে:
জামের বাইরের আবরণে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে
ফাইবার বা আঁশ। আঁশজাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দীর্ঘ দিন
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলদ্বারে টিউমার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জাম মলদ্বার বা
কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৯। উচ্চ রক্তচাপ:
ক্লিনিকাল ভাবে উচ্চ রক্তচাপ এর জন্য জামকে
প্রেসক্রিপশনে প্রদান করা হয়েছে। পুষ্টিবিদ এবং চিকিত্সকগণ তাজা ফল এবং
সবজি খাওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জামে সেই সকল উপাদান আছে
যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।
১০। ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে:
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিক
কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়বেটিক রোগীদের
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে।
১১। ভিটামিন সি জনিত রোগ দূর করে:
জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যার জন্য
এটা দেহে ভিটামিন সির ঘাটতি পূরণ করে এবং একই সঙ্গে ভিটামিন সির অভাবজনিত
রোগ প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাড়ি শক্ত এবং
মাড়ির ক্ষয়রোধেও জুড়ি নেই জামের। এতে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাশিয়ামের মতো
উপাদান গরমে শরীর ঠাণ্ডা এবং শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতে সক্ষম। যারা
অতিরিক্ত ঘামেন, তাদের জন্য তো কথাই নেই। জামে দেখা মেলে বেশি পরিমাণের
আয়রনেরও, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে।
১২। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে:
জামে কম পরিমাণের ক্যালোরি থাকে, যা
ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যারা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং
নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাদের খাদ্য তালিকায় আসতে পারে জাম।
১৩। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
এর মধ্যে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। এটি অন্ত্রে পানি প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে।
১৪। হাড় শক্ত করে
কালো জামের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করে। ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম হাড় শক্ত করা নিশ্চিত করে।
১৫। ত্রুটিপূর্ণ জন্ম প্রতিরোধ করে
কালো জামে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড আছে যা
শিশুর ত্রুটিপূর্ণ জন্ম প্রতিরোধ করে। এটি কার্ডিওভাসকুলার হৃদরোগ এবং
গর্ভে থাকা শিশুর বিভিন্ন ত্রুটি প্রতিরোধ করে।
সতর্কতা: খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়ার পর দুধ খাবেন না।
রমজানে সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করবেন যেভাবে
রমজানে সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা –
আজ থেকে শুরু হল সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। আমাদের দেশের
অধিকাংশ মানুষই এই পবিত্র মাসে সবাই চেষ্টা করবেন যার যার মত করে সংযম
সাধনায় মগ্ন থাকতে। যথাযথ পবিত্রতা আর সাধনার সঙ্গে পালিত হয় রমজানের এই
মাসটি। রোজার উপকারিতা অনেক। রোজা মেদভুঁড়ি, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ
রক্তচাপ, রক্তে খারাপ চর্বির পরিমাণ কমিয়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, পেটের পীড়াসহ
নানা ধরনের জটিলতা থেকে দেহকে রক্ষা করে।
রোজা শেষে ইফতারির উৎসব মুখর পরিবেশে
আয়োজন থাকে হাজার পদের খাবার। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো-মন্দ বিচার না করেই
খাওয়া চলে ভাজা পোড়া মুখরোচক খাবার। স্বাস্থ্য সম্মত খাবার হলেও অনেকে আবার
অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। এদিকে রোজার সময় একটানা ১০-১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে
হয়। এ পরিবর্তনকে মেনে নিতে গিয়ে দেহে কিছু কিছু সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু
খুব সহজেই এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব। সেজন্য..
বুক জ্বলা
রমজানে খাবারের ধরন ও সময়ের তারতম্যের কারণে পাকস্থলীর এসিডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বুকে জ্বালাপোড়া করে।
যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাঁরা
সাধারণত এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। রোজার শুরুর দিনগুলোতে যে কেউ এ সমস্যায়
আক্রান্ত হতে পারেন। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে রমজান মাসে অতিরিক্ত না খেয়ে
পরিমিত ও সুষম খাদ্য খান। সে সঙ্গে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার কম খান।
বন্ধ করুন কফি ও ধূমপান। একটু উঁচু বালিশে শুতে পারেন। গ্যাস্ট্রিকের
সমস্যার জন্য অ্যান্টাসিড, অ্যান্টিহিসটামিন বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর,
যেমন—ওমিপ্রাজল, পেন্টোপ্রাজল ইত্যাদি ওষুধ খেতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ
খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পানিশূন্যতা
একটানা ১৬-১৭ ঘণ্টা পানি পান না করায়
প্রায় সব রোজাদার পানিশূন্যতায় ভোগেন। তবে বয়স্ক ও যাঁরা ডাইইউরেটিকস,
যেমন—ফ্রুসেমাইড, থায়াজাইড, স্পাইরোনোল্যাকটোন জাতীয় ওষুধ খান, তাঁদের
পানিশূন্যতা বেশি হয়। আপনি প্রচণ্ড মাথা ঘোরার কারণে যদি দাঁড়িয়ে থাকতে না
পারেন বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে ভুলে যাওয়া শুরু করেন, তাহলে দ্রুত
শরবত পান করুন। সে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে থাকুন। আর কেউ যদি
রোজা রেখে অচেতন হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁর মাথা নিচু করে পা উপরে তুলে ধরুন। এর
পর জ্ঞান ফিরলে প্রচুর পানি পান করুন। পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পেতে হলে
ইফতারির পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রচুর পানি পান
করুন। ফ্রিজের খুব ঠান্ডা পানি পান করবেন না। ইফতারিতে রাখুন বিভিন্ন
প্রকারের শরবত। সে সঙ্গে শসা, পাকা কলা ও অন্যান্য ফলমূল।
কোষ্ঠকাঠিন্য
সারা দিন পানি পানের পরিমাণ কমে যাওয়ায়
রমজান মাসে সব রোজাদারই কমবেশি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। আঁশযুক্ত খাবার কম
খেলেও হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রচুর পানি পান করুন।
আঁশযুক্ত খাবার, যেমন—আটা, শিমের বিচি, ছোলা, শাকসবজি, ফলমূল বেশি বেশি
করে খান। চিনি, মিষ্টি ও ময়দা কম করে খান। এসবের পরও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
না হয়, তাহলে লেক্সিটিভ, যেমন—ল্যাকটুলোজ ওষুধ খেতে পারেন।
বদহজম ও বায়ু
খাবারের পরিমাণ বেশি হলে, অতিরিক্ত
মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে রোজাদারদের অনেক সময় পেট ফেঁপে যায়, পেটে
শব্দ হয়, পায়ুপথ দিয়ে ঘন ঘন বায়ু বের হয়। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে এ রকম
হতে পারে। আবার ডিম, ছোলা পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্ত
থাকতে চাইলে এসব খাবার পরিহার করতে হবে। সে সঙ্গে প্রচুর পানি ও ফলের জুস
পান করুন।
মাথাব্যথা
ধূমপায়ী ও কফি পানকারীরা রমজান মাসে কফি
বা ধূমপান না করায়, রমজানে ঘুমের পরিমাণ কম হওয়ায় এবং ক্ষুধা-পানিশূন্যতার
জন্য সাধারণত দিনের শেষে- ইফতারের আগে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে। সে
সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে রোজা শুরুর
সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কফি- ধূমপান ত্যাগের অভ্যাস করতে হবে। শেষ রাতে
পরিমিত ও সুষম সেহরি খেতে হবে। সে সঙ্গে প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোজা
রেখে রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করবেন না। বাইরে বেরোলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার
করুন। যদি মাথাব্যথা অসহ্য হয়, তাহলে সেহরির পর প্যারাসিটামল খেতে পারেন।
দুর্বলতা
সাধারণত দিনের শেষে, ইফতারের আগে রক্তচাপ
কমে যাওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভোগেন। এটা প্রতিরোধ করার জন্য
প্রচুর লবণ-পানি বা শরবত পান করুন। সেহরি খেতে অবশ্যই ভুলবেন না।
মানসিক অবসাদ
সারা দিন পানি ও খাবার না খাওয়া, ঘুমের
পরিমাণ কম হওয়ার জন্য আপনি মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন। এ থেকে রক্ষা পেতে
হলে দুচিন্তা পরিহার করুন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন আর ধূমপান ত্যাগ করুন।
মাংসপেশির টান
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম
লবণের পরিমাণ কমে গেলে মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে
শাকসবজি, ফলমূল, দুধ এবং দুধজাত খাবার ও খেজুর খেতে হবে।
রমজানে সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করবেন যেভাবে
রমজানে সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা –
আজ থেকে শুরু হল সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। আমাদের দেশের
অধিকাংশ মানুষই এই পবিত্র মাসে সবাই চেষ্টা করবেন যার যার মত করে সংযম
সাধনায় মগ্ন থাকতে। যথাযথ পবিত্রতা আর সাধনার সঙ্গে পালিত হয় রমজানের এই
মাসটি। রোজার উপকারিতা অনেক। রোজা মেদভুঁড়ি, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ
রক্তচাপ, রক্তে খারাপ চর্বির পরিমাণ কমিয়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, পেটের পীড়াসহ
নানা ধরনের জটিলতা থেকে দেহকে রক্ষা করে।
রোজা শেষে ইফতারির উৎসব মুখর পরিবেশে
আয়োজন থাকে হাজার পদের খাবার। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো-মন্দ বিচার না করেই
খাওয়া চলে ভাজা পোড়া মুখরোচক খাবার। স্বাস্থ্য সম্মত খাবার হলেও অনেকে আবার
অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। এদিকে রোজার সময় একটানা ১০-১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে
হয়। এ পরিবর্তনকে মেনে নিতে গিয়ে দেহে কিছু কিছু সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু
খুব সহজেই এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব। সেজন্য..
বুক জ্বলা
রমজানে খাবারের ধরন ও সময়ের তারতম্যের কারণে পাকস্থলীর এসিডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বুকে জ্বালাপোড়া করে।
যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাঁরা
সাধারণত এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। রোজার শুরুর দিনগুলোতে যে কেউ এ সমস্যায়
আক্রান্ত হতে পারেন। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে রমজান মাসে অতিরিক্ত না খেয়ে
পরিমিত ও সুষম খাদ্য খান। সে সঙ্গে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার কম খান।
বন্ধ করুন কফি ও ধূমপান। একটু উঁচু বালিশে শুতে পারেন। গ্যাস্ট্রিকের
সমস্যার জন্য অ্যান্টাসিড, অ্যান্টিহিসটামিন বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর,
যেমন—ওমিপ্রাজল, পেন্টোপ্রাজল ইত্যাদি ওষুধ খেতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ
খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পানিশূন্যতা
একটানা ১৬-১৭ ঘণ্টা পানি পান না করায়
প্রায় সব রোজাদার পানিশূন্যতায় ভোগেন। তবে বয়স্ক ও যাঁরা ডাইইউরেটিকস,
যেমন—ফ্রুসেমাইড, থায়াজাইড, স্পাইরোনোল্যাকটোন জাতীয় ওষুধ খান, তাঁদের
পানিশূন্যতা বেশি হয়। আপনি প্রচণ্ড মাথা ঘোরার কারণে যদি দাঁড়িয়ে থাকতে না
পারেন বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে ভুলে যাওয়া শুরু করেন, তাহলে দ্রুত
শরবত পান করুন। সে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে থাকুন। আর কেউ যদি
রোজা রেখে অচেতন হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁর মাথা নিচু করে পা উপরে তুলে ধরুন। এর
পর জ্ঞান ফিরলে প্রচুর পানি পান করুন। পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পেতে হলে
ইফতারির পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রচুর পানি পান
করুন। ফ্রিজের খুব ঠান্ডা পানি পান করবেন না। ইফতারিতে রাখুন বিভিন্ন
প্রকারের শরবত। সে সঙ্গে শসা, পাকা কলা ও অন্যান্য ফলমূল।
কোষ্ঠকাঠিন্য
সারা দিন পানি পানের পরিমাণ কমে যাওয়ায়
রমজান মাসে সব রোজাদারই কমবেশি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। আঁশযুক্ত খাবার কম
খেলেও হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রচুর পানি পান করুন।
আঁশযুক্ত খাবার, যেমন—আটা, শিমের বিচি, ছোলা, শাকসবজি, ফলমূল বেশি বেশি
করে খান। চিনি, মিষ্টি ও ময়দা কম করে খান। এসবের পরও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
না হয়, তাহলে লেক্সিটিভ, যেমন—ল্যাকটুলোজ ওষুধ খেতে পারেন।
বদহজম ও বায়ু
খাবারের পরিমাণ বেশি হলে, অতিরিক্ত
মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে রোজাদারদের অনেক সময় পেট ফেঁপে যায়, পেটে
শব্দ হয়, পায়ুপথ দিয়ে ঘন ঘন বায়ু বের হয়। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে এ রকম
হতে পারে। আবার ডিম, ছোলা পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্ত
থাকতে চাইলে এসব খাবার পরিহার করতে হবে। সে সঙ্গে প্রচুর পানি ও ফলের জুস
পান করুন।
মাথাব্যথা
ধূমপায়ী ও কফি পানকারীরা রমজান মাসে কফি
বা ধূমপান না করায়, রমজানে ঘুমের পরিমাণ কম হওয়ায় এবং ক্ষুধা-পানিশূন্যতার
জন্য সাধারণত দিনের শেষে- ইফতারের আগে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে। সে
সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে রোজা শুরুর
সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কফি- ধূমপান ত্যাগের অভ্যাস করতে হবে। শেষ রাতে
পরিমিত ও সুষম সেহরি খেতে হবে। সে সঙ্গে প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোজা
রেখে রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করবেন না। বাইরে বেরোলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার
করুন। যদি মাথাব্যথা অসহ্য হয়, তাহলে সেহরির পর প্যারাসিটামল খেতে পারেন।
দুর্বলতা
সাধারণত দিনের শেষে, ইফতারের আগে রক্তচাপ
কমে যাওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভোগেন। এটা প্রতিরোধ করার জন্য
প্রচুর লবণ-পানি বা শরবত পান করুন। সেহরি খেতে অবশ্যই ভুলবেন না।
মানসিক অবসাদ
সারা দিন পানি ও খাবার না খাওয়া, ঘুমের
পরিমাণ কম হওয়ার জন্য আপনি মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন। এ থেকে রক্ষা পেতে
হলে দুচিন্তা পরিহার করুন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন আর ধূমপান ত্যাগ করুন।
মাংসপেশির টান
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম
লবণের পরিমাণ কমে গেলে মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে
শাকসবজি, ফলমূল, দুধ এবং দুধজাত খাবার ও খেজুর খেতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন