সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬

নরসিংদীর আলোচিত ৬ খুনের রহস্য উন্মোচনকারী পুলিশ সুপার বাবুল


নরসিংদী থেকেঃ 
২০০৭ সালে ১৮ মে, এক ভয়ংকর ঘটনার সংবাদে সকাল শুরু হয় নরসিংদীবাসীর। একই পরিবারের ৬ সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্দার করা হয় শহরের ভেলানগর এলাকার যুবরাজ ভিলা থেকে। খুন করে ঘরের ভেতরেই লাশগুলো বস্তাভর্তি করে রাখা হয়েছিল চার দিন। ডাকাতি করত এসে ঘরের ভিতর থাকা ৬ জন নারী-পুরুস ও শিশুকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। হত্যা করার আগে নারীদের পালাক্রমে ধর্ষন করে খুনিরা, বাদ যায়নি ৬ বছরের কন্যা শিশুও। এই লোমহর্ষক ঘটনায় শোকে স্তব্দ হয়ে যায় নরসিংদী সহ সারা দেশের মানুষ। পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা দিনরাত পরিশ্রম করেও এই হত্যার মূল কারন উদঘাটন করতে
না পারলেও অবশেষে এক র‌্যাব অফিসার উদঘাটন করেন এর রহস্যের। নাম তার বাবুল আক্তার, বর্তমানে পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত আছেন পুলিশ হেডকায়ার্টারে। আজ সকালে চট্রগ্রামে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয় তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। এই চৌকষ অফিসারের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মর্মাহত নরসিংদীর মানুষ। নরসিংদীবাসীর কাছে এক আলোচিত নাম বাবুল আক্তার।
সাধারন মানুষের অস্থার প্রতিক, পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার পুলিশে যোগ দেন ২০০৫ সালে। সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে র‌্যাব-২-এ কর্মজীবন শুরু। র‌্যাবে যোগ দেয়ার পর, বাবুল আক্তার ২০০৭ সালে স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিলেন ‘ভয়ংকর’ ছয় খুনের রহস্য উন্মোচনের দায়। ঘটনার তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চান র‌্যাব অফিসার বাবুল। অনুমতি পাওয়ার পর শুরু হয় বাবুলের অভিযান। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ঘুরে গ্রেপ্তার করেন বীরুকে। তার সূত্র ধরে পুরো হত্যারহস্য উন্মোচন করে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। মামলার বিচার শেষে আসামিদের ফাঁসির রায় দেন আদালত। এমন নরপিশাচদের শাস্তির আওতায় এনে নরসিংদীবাসীকে স্বস্তি দেন তিনি। নরসিংদীকে কর্মরতকালীন সাধারন মানুষের যে কোন অসুবিধায় ঝাপিয়ে পড়েছেন। কঠোর পরিশ্রমী ও বিনয়ী এই পুলিশ অফিসারের স্ত্রীর নৃর্মম হত্যাকান্ডে শোকে স্তব্দ নরসিংদীবাসী। নরসিংদীর সিনিয়র সাংবাদিক বিশ্বজিৎ কুমার সাহা জানান, নরসিংদীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় সততা ও নিষ্ঠার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত ছিলেন বাবুল আক্তার। তার স্ত্রীর এমন মৃত্যু আমরা শোকাহত। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ, এই পুলিশ অফিসার যেন শোক কাটিয়ে উঠতে পারে আমরা সেই কামনা করছি।
যোগদানের পরের বছর পুলিশ এই কর্মকর্তা পুরান ঢাকা থেকে নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার জাল সনদ, সনদ তৈরির কারখানা এবং এই অপকর্মের দুই হোতাকে আটক করেন। আইকন’ বাবুল আক্তারকে নিয়ে গর্ব করে বাংলাদেশ পুলিশ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগ মুহূর্তে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বাবুল আক্তারকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এই বলে, ‘বাবুল আমাদের সবচেয়ে সাহসী অফিসার।’ শুনে প্রধানমন্ত্রী বাহবা দিলেন। বাবুল আক্তার দ্বিতীয় দফা স্যালুট দিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী বাবুলের বুকে পরিয়ে দিলেন ‘বিপিএম’ মেডেল।
Add caption
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তারের জন্ম ১৯৭৫ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার মদনপুর গ্রামে। বাবা আবদুল ওয়াদুদ মিয়া ও মা শাহিদা বেগম। ২০০৪ সালে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে সংসারজীবন শুরু করেন। দুটি সন্তান আক্তার মাহমুদ মাহির ও আক্তার তাবাচ্ছুম তানজিলা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন